Image

হারানো ঐতিহ্য : রিক্সা পেইন্টিং

জাপান থেকে রিক্সার উৎপত্তি তার পরও রিক্সা আমাদের দেশে যানবাহন হিসেবে প্রথম থেকেই বেশ জনপ্রিয়।রিক্সা কারুশিল্পেরই একটি অংশ। গ্রাম-শহরে সবখানেই রিক্সার চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই রিক্সায় বিভিন্ন রকমের নকশা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব নকশার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পেইন্টিং। রিক্সায় করা নকশার অনুষঙ্গ হিসেবে আমরা দেখতে পাই- প্রকৃতি, বাংলা সিনেমার নানা ঘটনা সংবলিত চিত্র, পশু-পাখি, ফুল, লতা-পাতা, নদীর চিত্র ইত্যাদি। এই চিত্রগুলোতে পরিপেক্ষিত, গ্রামার খুব কম ব্যবহার হত। তবে শিল্প  মানে কোন ভাবে কমতি ছিলো না।

রিক্সাকে উপলক্ষ করে আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ ক’টি শ্রমজীবী শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে। এর মধ্যে প্রথম হচ্ছে রিক্সা মেকার, রিক্সা বডি মেকার ও রিক্সা পেইন্টার। রিক্সা অলংকরণ করেন যারা তাদের পেইন্টার বলে। এ শ্রেণী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আসা নয়। কিন্তু এদের রয়েছে ভিন্ন শিল্পবোধ। এনামেল পেইন্ট দিয়ে এরা এঁকে যায় প্রকৃতি, মানুষ, সিনেমার পোস্টার বিভিন্ন কিছুর ছবি। রং ব্যবহারে এদের কোনো সীমাবদ্ধতা ,  একটা ভিন্ন ধারা শিল্পমাত্রার জন্ম দিয়েছে। রিক্সা পেইন্টিং এর এটাই মূল বিষয়। 

রিক্সাগুলোর গায়ে যেসব ছবি বা চিত্র আঁকা হয় তা রিক্সার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। মাঝে মধ্যে মজার সব ছবিও আঁকা হয় রিক্সার পিছন দিকে। আর সবচেয়ে বেশি যেটি চোখে পড়ে সেটি সিনেমার কোনো বিশেষ দৃশ্যের ছবি। নায়ক নায়িকাদের ছবিও চোখে পড়ে। আবার কোনো কোনো রিক্সার  পেছনে বাঘ-হরিণের ছবিও দেখতে পাওয়া যায়।

যারা রিক্সায় এসব ছবি বা রিকশায় আঁকানোর কাজ করে তাদের আমরা পেইন্টার বলি। তাদের নিখুঁত হাতের পেইন্টিং দেখতে যেমন বেশ, তেমন জীবন্তও।কিছুদিন আগেও এ পেশায় প্রচুর মানুষ কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন।কিন্তু সময়ের সাথে যুগের পরিবর্তনে আজকে তারা কর্মহীন বা অন্য পেশায় নিয়োজিত। কারণ কম্পিউটারের যুগে সব ডিজিটাল ভাবেই করা হয়। রেক্সিনে গ্রাফিক্স করে তৈরি হয় সব।

অনেক চেস্টার পরেও সিলেট শহরে কোন পেইন্টারের দেখা পেলাম না। এখন বড় বড় প্রর্দশনীতে এই ধরনের ১/২ টি চিত্রকর্ম দেখা যায়। আমরা এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল হয়ে  অনেক কিচ্ছুই ভুলে যাচ্ছি যা আমাদের ঐতিহ্য ।